April 19, 2026, 11:17 am

ঝিনাইদহ পৌরসভার বেহাল দশা, ময়লার ভাগাড়ে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন, দেখবে কে?

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ-ঝিনাইদহ পৌরসভার নাগরিক সেবা দিনকে দিন হ্রাস পাচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডবাসীর মাঝে ধুমায়িত হচ্ছে ক্ষোভ। ভাঙ্গাচোরা রাস্তা ও শ্রোত বিহীন বন্ধ ড্রেনের পর এবার পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিকরা। ড্রেনগুলো ঠিকমতো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে না। করা হলেও দায়সারা গোচের। রাস্তার পাশে জমে আছে আবর্জনার স্তুপ। সেখান দিয়ে পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। পৌর এলাকার ডাস্টবিনগুলোর অবস্থা আরো করুন। ঝিনাইদহ শহরের উজির আলী স্কুলের সামনে রয়েছে একটি ডাস্টবিন। এলাকার মানুষ সেখানে বাসাবাড়ির আবর্জনা ফেলে। কিন্তু ডাস্টবিনটি নিয়মিত পরিস্কার করা হয়না। ফলে উৎকট গন্ধে মানুষ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারে না। স্থানীয় পান ব্যবসায়ী শামিম হোসেন জানান, ডাস্টবিন থেকে আসা গন্ধে তার দোকানের কাস্টার এক মুহুর্তও দাড়াতে পারে না। রহিমা খাতুন নামে এক শিক্ষার্থী জানান, ডাস্টবিন থেকে পচা গন্ধ স্কুলের আঙ্গিনা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে গনমাধ্যমকর্মীরা দেখের রাস্তার পাশে স্তুপ করে রাখা আবর্জনা পড়ে আছে। নতুন হাটখোলা এলাকার বাবু গ্যাস ঘরের সামনে আবর্জনার পাহাড় জমে আছে। ঝিনাইদহ শহরের উপশহরপাড়ার একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফারমারের নিচে ময়লার ভাগাড় তৈরী হয়েছে। সিএন্ডবি পুকুরের মধ্যে ময়লা ফেলার কারণে মহল্লাবাসি উৎকট গন্ধ নিয়ে বসবাস করছেন। জেলা কৃষি অফিসের পাশে কৃষ্ণপাড়া সড়কে পৌরসভার ডাস্টবিনে গরু আর কুকুর খাবার নিয়ে লড়াই করে। এ ভাবে শহরের অলিগলিতে ময়লা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে বসবাস করার পরিবেশ ব্যহত হচ্ছে। মারাত্মক ভাবে স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়েছে পৌরসভার নাগরিকরা। তথ্য নিয়ে জানা গেছে ঝিনাইদহ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বহু প্লাস্টিকের ও কংক্রিটের ডাস্টবিন রয়েছে। প্রতিদিন এসব ডাস্টবিন পরিস্কার করা হয় না, পালাক্রমে হয়। কিন্তু জনাকীর্ন ও গুরুত্বপুর্ন এলাকার ডাস্টবিনগুলো নিয়মিত পরিস্কার করা না হলে পৌরসভার ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। অনেক এলাকায় দেখা গেছে মানুষ সচেতন নয়। রাস্তার উপরেই পচা জিনিস ফেলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে বৃহস্বপতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ পৌরসভায় গেলে দেখা গেছে ৫/৭টি কুকুর ভবনের মধ্যে ঢুকে আরাম করছে। বারান্দায় শুয়ে আছে ৩টি কুকুর। ভয়ে সেবাগ্রহীতা ঢুকতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে মুঠোফোনে বৃহস্পতিবার বিকালে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চাদ জানান, প্রতিদিন তো শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। এমন তো হওয়ার কথা নয়। হয়তো পরিস্কার করার পর এই ময়লাগুলো ফেলেছে। পরিচ্ছন্ন বিভাগের প্রধান শামছুল আলম জানান, হাটের মধ্যে সকালে পরিস্কার করা হয়েছে। সেখানে তো আবর্জনার স্তুপ থাকার কথা নয়। তিনি বলেন উজির আলী স্কুলের পাশের ডাস্টবিন একদিন পর পর পরিস্কার করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা